Tolperisone Hydrochloride

Generic Drug 15 Brands
Advertisement

বর্ণনা: টোলপেরিসন হাইড্রোক্লোরাইড একটি কেন্দ্রীয়ভাবে কাজ করা পেশী শিথিলকারী ঔষধ, যা পেশীর কাঁপুনি ও টানজনিত ব্যথা কমাতে ব্যবহৃত হয়। এটি মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের পেশী নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে কাজ করে, প্রধানত সোডিয়াম ও ক্যালসিয়াম আয়ন চ্যানেল বাধাগ্রস্ত করে পেশী সঙ্কোচন কমায়। সাধারণত স্ট্রোক, স্নায়ু সংক্রান্ত অসুখ (যেমন মস্তিষ্কে আঘাত, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস) বা মেরুদণ্ড–ঘাড়ের সমস্যায় বাড়তি পেশী টোন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়।। 

কার্যপ্রণালী: টোলপেরিসন স্নায়ুতন্ত্রে গিয়ে পেশীর শক্তি সংকোচন নিয়ন্ত্রণকারী সিগন্যালকে বন্ধ করে দেয়। এর ফলে সোডিয়াম (Na⁺) ও ক্যালসিয়াম (Ca²⁺) আয়ন চ্যানেলগুলো হ্রাস পায়, যা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে পেশী সংকোচন কমায়। এছাড়াও এটি রক্তনালীগুলোকেও কিছুটা প্রশস্ত করে রক্তচাপ হ্রাস করতে পারে।

ফার্মাকোকিনেটিক্স: মুখে খাওয়ার পর টোলপেরিসন দ্রুত রক্তে গলায়; এন্টাসিড বা খাবারের সাথে খেলে এর শোষণ প্রায় অল্পখানি হ্রাস পেতে পারে। এটি রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন টিস্যুতে পৌঁছায়। লিভারে কিছু পরিমাণে মেটাবোলাইজ (উদ্ভিজ্জ) হয়ে থাকে এবং শেষমেশ প্রস্রাবের (প্রধানত) মাধ্যমে এবং কিছু অংশ পায়খানার মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়। গড়ে এর অর্ধায়ু (half-life) কয়েক ঘণ্টা।

 

টোলপেরিসন পেশীর অত্যধিক টান বা স্প্যাজম (খিঁচুনি)জনিত অসুবিধা কমাতে ব্যবহার করা হয়। প্রধানত ব্যবহৃত হয়:

  • নিউরোলজিক্যাল স্পাস্টিসিটি: স্ট্রোক, সেরেব্রাল পালসি, মস্তিষ্ক বা মেরুদণ্ড সংক্রান্ত অসুস্থতায় (যেমন মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস) পেশী টোন বেড়ে গেলে।
  • পেশী টান ও ব্যথা: ঘাড় বা মেরুদণ্ডের আঘাত, মাসল স্প্রেন বা মাইয়ালজিয়া–এর কারণে পেশীতে টান ধরা বা ব্যথা থাকলে। উদাহরণ: নিম্ন পিঠের বা ঘাড়ের তীব্র পেশীব্যথায়।
  • পোস্ট-স্ট্রোক রিহ্যাবিলিটেশন: স্ট্রোকের পর পেশী শক্তি বেড়ে গেলে পুনর্বাসনে সাহায্য হিসেবে।

     

বয়স্ক (প্রাপ্তবয়স্ক): সাধারণত ৫০–১৫০ মিগ্রা (mg) তিন বেলা (প্রতি ৮ ঘণ্টা) মুখে দেওয়া হয়। প্রথম দিকে ৫০ মিগ্রা দিনে ৩ বার থেকে শুরু করে গর্ভে পেশী টোন কমাতে ধীরে ধীরে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ দিনে ৪৫০ মিগ্রা (১৫০×৩) নেয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, স্ট্রোক পরবর্তী স্পাস্টিসিটি–তে দিনে ১৫০–৪৫০ মিগ্রা। কিছু গবেষণায় দিনে ৬০০ মিগ্রাও ব্যবহৃত হলেও তা খুব উচ্চ মাত্রা।

শিশু (৩ মাস–৬ বছর): মোট ৪.৫ মিগ্রা/কেজি/দিন (তিন ভাগে)।

শিশু (৬–১৪ বছর): মোট ২–৪ মিগ্রা/কেজি/দিন (তিন ভাগে)।

প্রদান রুট: মৌখিক (oral tablet)। হাইড্রোক্লোরাইড আকারে পাওয়া যায়।

ডোজ সামঞ্জস্য:

  • বৃদ্ধবয়স্ক/জটিল রোগ: বয়স ও শারীরিক সমস্যা অনুযায়ী প্রয়োজনে ডোজ কমানো যেতে পারে।
  • কিডনি সমস্যা: নির্দিষ্ট গাইডলাইন নেই; গুরুতর রেনাল রোগে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিৎ, প্রয়োজনে নিড় ভবতম ডোজ বিবেচনা করতে হবে।
  • লিভার সমস্যা: আংশিক লিভার মেটাবলিজম থাকার কারণে মৃদু লিভার সমস্যা থাকলেও ডোজ সামঞ্জস্যের প্রয়োজন হয় না; তবে গুরুতর হেপাটিক ভুগে থাকলে সতর্ক থাকতে হবে।

 

  • শিশুদের ক্ষেত্রে: টোলপেরিসোনের ডোজ এবং চিকিৎসাকাল সাবধানতার সঙ্গে নির্ধারণ করতে হবে। অতি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শমতো মাত্রা বাড়ানো/কমানো যাবে।
  • অ্যলার্জি ঝুঁকি: ইউরোপীয় পর্যালোচনায় দেখা গেছে টোলপেরিসোনের প্রতিক্রিয়া অধিকাংশই অতিসংবেদনশীলতা (অ্যালার্জি) সংক্রান্ত। তাই পূর্বে কোনও ধরনের ওষুধে এলার্জি থাকলে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। প্রথম সেবনের পর ত্বকের ফুসকুড়ি, চুলকানি বা শ্বাসকষ্ট লক্ষ করলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
  • প্রসূতি ও নবজাতক: গর্ভাবস্থায় টোলপেরিসোনের নিরাপত্তা ক্লিয়ার নয়; প্রয়োজন না হলে এড়িয়ে চলাই ভালো। স্তনদানের সময় সম্পূর্ণ টোলপেরিসোন ব্যবহারের পরামর্শ নেই।
  • চিকিৎসা মনিটরিং: রক্তচাপ, শ্বাসপ্রশ্বাস ও পেশী স্বস্তি পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে। বিশেষ কোনো ল্যাব টেস্ট আবশ্যক নয়। দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োগের ক্ষেত্রে যকৃত ফাংশন পরীক্ষা বিবেচনা করুন, কারণ এটি যকৃতের মাধ্যমে বিপাকিত হয়।
  • অন্যান্য: ড্রাইভিং বা ভারী যন্ত্রচালনায় সতর্ক থাকুন; যদিও সাধারণত এই ওষুধ ঘুম বা মন্দা সৃষ্টি করে না, তবুও বিরল ক্ষেত্রে মাথা ভারি বা ঘোরা অনুভব হতে পারে।

টোলপেরিসন সাধারণত সহনীয়, কিন্তু কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, যা বেশিরভাগই মৃদু ও অল্প সময়ের জন্য:

  • সাধারণ/কমন:
    • ক্লান্তি ও ঘুম: ওষুধের স্নায়ুবিক শান্তি গুণের কারণে মাথা ভারি বা ক্লান্তি হতে পারে।
    • মাথা ঘোরা (ডিজিজি): স্থির হয়ে নাওয়ায় সাময়িক ঘোর অনুভূত হতে পারে।
    • মাংসপেশী দুর্বলতা: অধিক ডোজে সাময়িক পেশী দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
    • জলবমি, বমি বমি ভাব: অন্ত্রতন্ত্রে সামান্য বিরক্তি; ডায়েরিয়া কমই হয়।
    • মূত্রত্যাগ বৃদ্ধি: কিছু ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে।
  • অল্প সাধারণ/খুব কমন:
    • ত্বকের ফুসকুড়ি বা এলার্জি: বিরল হলেও চামড়ায় লালচে র‍্যাশ বা চুলকানি হতে পারে।
    • হাইপোটেনশন (রক্তচাপ কমা): মাঝে মাঝে রক্তচাপ কমতে পারে, বিশেষ করে যদি একসঙ্গে উচ্চরক্তচাপের ওষুধ চলমান থাকে।
    • অ্যাক্সিডেন্টাল চোক: খুব বিরল ক্ষেত্রে (বিশ্বজুড়ে রিপোর্ট এসেছে) অ্যানাফাইলাক্টিক শকের মত ঘটনা, যা জরুরি চিকিৎসা দাবি করে।
  • নাজুক/গুরুতর:
    • অ্যানাফাইলাক্টিক প্রতিক্রিয়া: অতি বিরল, কিন্তু জোরালো এলার্জি হলে শরীরের সমস্ত অংশে উলকি বা শক হতে পারে।
    • স্টিভেনস–জনসন সিন্ড্রোম: ত্বকে বড় ফোসকা সহ আলপতা হতে পারে (খুবই দুর্লভ)।
    • অম্লতাপূর্ণ প্রবাহ: আরও কোনও গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার রিপোর্ট পাওয়া যায়নি, কারণ রোগীরা তেমন উচ্চ মাত্রায় ব্যবহার না করেই থামিয়ে দেয়।
  • যেকোন উপাদান বা Tolperisone-এর প্রতি অতিসংবেদনশীলতা (অ্যালার্জি) থাকলে ব্যবহার নিষেধ।
  • মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস রোগে এই ওষুধ ব্যবহারের সুপারিশ নেই।
  •  গর্ভাবস্থা  অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে প্রমাণিত হয়নি। অতএব গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আবশ্যক প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করতে হয়। (এই সময়ে এড়িয়ে চলাই উত্তম।) তবে স্তনদানকালীন সময়ে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  • (উল্লেখ্য: গর্ভধারণের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্য নেই; তাই সাধারণত ডাক্তারের নির্দেশ ছাড়া এড়িয়ে চলতে বলা হয়।)

টোলপেরিসন বিষয়ে গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মহিলাদের জন্য সীমিত তথ্য রয়েছে:

  • গর্ভকাল: প্রাণী গবেষণায় কোনো গুরুতর অনির্ধারিত প্রভাব পাওয়া যায়নি, কিন্তু মানব অভিজ্ঞতা কম। চতুর্মাসিক পর্যায়ে টোলপেরিসন সেবনের নিরাপত্তা সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। তাই গর্ভস্থশিশুর সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ন্যূনতম প্রয়োজন অনুযায়ী এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা হয়।
  • স্তন্যদান: টোলপেরিসনের মূত্রে নিঃসরণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় স্তন্যদানকালে এড়িয়ে চলাই উত্তম। লাইক্টেশন-এ ব্যবহার করলে নবজাতক আক্রান্ত হতে পারে; সেক্ষেত্রে বিকল্প থেরাপি বিবেচিত হয়।
  • পরিকল্পনা: গর্ভধারণের পূর্বেও ডাক্তারের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনীয় না হলে গর্ভাবস্থায় ব্যবহার বর্জন করুন।

টোলপেরিসন অন্যান্য ওষুধের সাথে মিলিত হতে পারে, যা সেরে পরার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে:

  • CNS ডিপ্রেসার: ব্যাবিজেপাইন, সেডেটিভ (যেমন-ডায়াজেপাম) বা এলকোহল-সহকারে টোলপেরিসন নিলে অতিরিক্ত ঘুম, মাথা ভারি ভাব, মনোযোগ কমতে পারে। এড়াতে সতর্ক থাকতে হবে।
  • রক্তচাপ কমানোর ঔষধ: যদি পেশী শিথিলের পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খাওয়া হয়, তাহলে রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে যেতে পারে। রক্তচাপ নিয়মিত পরীক্ষা করুন। প্রয়োজনে ডোজ সামঞ্জস্য করতে হবে।
  • অ্যান্টি-হিস্টামিন/অ্যালার্জি ঔষুধ: যেগুলো সিডেটিভ (ঘুম বাড়ায়) কাজ করে, সেগুলোর সঙ্গেও সামঞ্জস্য করে দেয়া উচিত, কারণ অতিরিক্ত ক্লান্তি বাড়তে পারে।
  • অন্য পেশী শিথিলকারী: যদি অন্য কোনো পেশী শিথিলকারী (যেমন ব্যাক্লোফেন, চোস্টেক) একসঙ্গে দেওয়া হয়, সিডেটিভ ইফেক্ট ও ডিপ্রেসান্ট ইফেক্ট বাড়তে পারে। সতর্কতার সাথে একযোগে প্রয়োগ করুন।
  • এলকোহল এবং ওষুধের মিল: সাধারণভাবে এলকোহল এবং সেডেটিভ মাদকাসক্তির সঙ্গে সংঘাত হতে পারে, তাই এড়িয়ে চলুন।
  • এনজাইম-উদ্দীপক/প্রতিবন্ধক: টোলপেরিসনের বিপাকে CYP450 এনজাইম সিস্টেমের উল্লেখযোগ্য সক্রিয়তা নেই বলে ধারণা করা হয়, তাই বিশেষভাবে কম্বিনেশনের কথা উল্লেখ নেই।

টোলপেরিসোন অতিরিক্ত সেবনের ক্ষেত্রে বিশেষ কোন প্রতিষেধক নেই। অতিরিক্ত সেবন হলে লক্ষণসমূহ হিসেবে হতে পারে গুরুতর স্নায়ুবিক ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা, অচেতনতা, রক্তচাপ কমে যাওয়া ইত্যাদি। 
    

Advertisement