মিফটন / মিফেপ্রিস্টোন (Mifeton / Mifepristone): মিফেপ্রিস্টোন একটি কৃত্রিম স্টেরয়েড যা প্রোজেস্টেরন হরমোনের কার্যকারিতাকে বাধা দেয় । এটি জরায়ুর অভ্যন্তরে প্রোজেস্টেরন রিসেপ্টরের সাথে প্রতিযোগিতামূলক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ করে । বিভিন্ন প্রাণীর ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, এটি শরীরের নিজস্ব বা বাইরে থেকে নেওয়া প্রোজেস্টেরনের কার্যকারিতা বন্ধ করে মাসিক নিয়মিতকরণ (MR) সম্পন্ন করে । গর্ভাবস্থায় এই উপাদানটি জরায়ুর পেশিকে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের সংকোচন-প্রেরণকারী কার্যকারিতার প্রতি সংবেদনশীল করে তোলে ।
মিসোটল / মিসোপ্রোস্টল (Misotol / Misoprostol): মিসোপ্রোস্টল হলো প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন ই১ (prostaglandin E1)-এর একটি কৃত্রিম অ্যানালগ । এটি জরায়ুর পেশিকোষের নির্দিষ্ট রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত হয়ে জরায়ুর সংকোচন ঘটায় । এই প্রক্রিয়ায় ক্যালসিয়ামের ঘনত্বের পরিবর্তন ঘটে এবং পেশির সংকোচন শুরু হয় । প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন রিসেপ্টরের সাথে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে মিসোপ্রোস্টল জরায়ুমুখ (Cervix) নরম করে এবং জরায়ুকে সংকুচিত করে, যার ফলে জরায়ুর ভেতরের উপাদান বাইরে নিষ্কাশিত বা বের হয়ে যায় ।
মিফেপ্রিস্টোন এবং মিসোপ্রোস্টল — এই দুটি ওষুধ একসঙ্গে ব্যবহার করলে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে নিরাপদে এবং কার্যকরভাবে গর্ভপাত বা মাসিক নিয়মিতকরণ (MR) করা যায়। দুটি ওষুধ একে অপরকে সহযোগিতা করে কাজ সম্পন্ন করে।
মিফেপ্রিস্টোন কীভাবে কাজ করে : গর্ভধারণ টিকিয়ে রাখতে শরীরে "প্রোজেস্টেরন" নামের একটি হরমোন দরকার হয়। মিফেপ্রিস্টোন এই হরমোনের কাজ বন্ধ করে দেয়। ফলে জরায়ুর ভেতরের স্তর ভেঙে পড়ে এবং ভ্রূণ আলাদা হয়ে যায়। পাশাপাশি এটি জরায়ুর পেশিকে পরবর্তী ওষুধের জন্য প্রস্তুত করে তোলে।
মিসোপ্রোস্টল কীভাবে কাজ করে এটি জরায়ুর মুখকে নরম করে এবং জরায়ুতে সংকোচন তৈরি করে, যার ফলে গর্ভজাত উপাদান রক্তপাতের মাধ্যমে বাইরে বের হয়ে আসে। ওষুধটি গালের ভেতরে বা জিভের নিচে রাখার মাত্র ৪০ মিনিটের মধ্যে কাজ শুরু হয়।
শরীর থেকে ওষুধ কীভাবে বের হয় মিফেপ্রিস্টোন মুখে খাওয়ার পর দ্রুত রক্তে মিশে যায় এবং লিভারের মাধ্যমে প্রক্রিয়া হয়ে মলের সাথে বের হয়। মিসোপ্রোস্টল শরীর দ্রুত শুষে নেয় এবং প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়।