Eye Drop (Ophthalmic Suspension) dosage form

Nepagen

Eye Drop (Ophthalmic Suspension)

Price Information

MRP
5 ml drop ৳ 150.00
Advertisement

Nepafenac একটি প্রো-ড্রাগ। অর্থাৎ, এটি চোখে দেওয়ার পর কর্নিয়া ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং সেখানে গিয়ে অ্যামফেনাক (Amfenac) নামক সক্রিয় রূপে রূপান্তরিত হয়। এই অ্যামফেনাক একটি শক্তিশালী NSAID, যা সাইক্লোঅক্সিজেনেজ-১ (COX-1) এবং সাইক্লোঅক্সিজেনেজ-২ (COX-2) উভয় এনজাইমের কার্যক্রমকে বাধা দেয়, যার ফলে ব্যথা ও প্রদাহ কমে।

  • ছানি অপারেশনের পর ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে
  • অপারেশনের পর চোখের ফোলা প্রতিরোধে
  • কিছু ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগীদের অপারেশন-পরবর্তী ম্যাকুলার এডিমা প্রতিরোধে ব্যবহার করা হয়

 

অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ব্যথা ও প্রদাহের জন্য: ছানি অস্ত্রোপচারের ১ দিন আগে থেকে দিনে ৩ বার ১ ফোঁটা করে দিন এবং অস্ত্রোপচারের দিন ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সময়ের প্রথম ২ সপ্তাহ পর্যন্ত তা চালিয়ে যান।

  • প্রাপ্তবয়স্ক ও ১০ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য:

    • ০.১% দ্রবণ: আক্রান্ত চোখে ১ ফোঁটা করে প্রতিদিন ৩ বার (সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা)। ছানি অপারেশনের ১ দিন আগে থেকে শুরু করে অপারেশনের দিন এবং পরবর্তী ২ সপ্তাহ ব্যবহার করতে হবে।
    •  ০.৩% দ্রবণ: আক্রান্ত চোখে ১ ফোঁটা করে প্রতিদিন ১ বার। অপারেশনের ১ দিন আগে থেকে শুরু করে অপারেশনের দিন এবং পরবর্তী ২ সপ্তাহ ব্যবহার করতে হবে। অপারেশনের ৩০ থেকে ১২০ মিনিট আগে একটি অতিরিক্ত ফোঁটা দিতে হবে।

  • ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য: এই বয়সে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

মনে রাখবেন: একটি ডোজ মিস করলে যত দ্রুত সম্ভব ব্যবহার করুন। তবে যদি পরবর্তী ডোজের সময় হয়ে যায়, তাহলে মিস করা ডোজটি বাদ দিন এবং নিয়মিত সময়সূচী অনুযায়ী চলুন।

  • রক্তপাতের ঝুঁকি: NSAID জাতীয় ওষুধ রক্ত জমাট বাঁধার সময় বাড়িয়ে দিতে পারে, যা চোখের অপারেশনের সময় রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে (হাইফিমাসহ)।

  • ক্ষত নিরাময়ে বিলম্ব: এটি চোখের ক্ষত শুকাতে দেরি করতে পারে।

  • কর্নিয়ার ক্ষতি: কর্নিয়ার প্রদাহ (কেরাটাইটিস), পাতলা হয়ে যাওয়া, ক্ষয়, আলসার বা বিরল ক্ষেত্রে ছিদ্র পর্যন্ত হতে পারে, যা দৃষ্টিশক্তির জন্য হুমকিস্বরূপ।

  • কন্টাক্ট লেন্স: চিকিৎসার সময় কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করা উচিত নয়।

  • সতর্কতামূলক ব্যবহার: যেসব রোগীর ইতিপূর্বে রক্তক্ষরণের সমস্যা আছে বা যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে সাবধানতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। এছাড়াও, জটিল চোখের অপারেশন, ডায়াবেটিস বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রেও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে

  • সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (সবচেয়ে বেশি দেখা যায়):

    • ক্যাপসুলার অপাসিটি (পরবর্তীতে ছানি পড়া)

    • দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা ঝাপসা দেখা

    • চোখে কিছু আছে এমন অনুভূতি (ফরেন বডি সেনসেশন)

    • চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে যাওয়া (ইন্ট্রাঅকুলার প্রেসার)

    • চোখে লেগে থাকা অনুভূতি (স্টিকি সেনসেশন)

  • অন্যান্য সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

    • কর্নিয়ার প্রদাহ বা ত্রুটি, চোখে চুলকানি, শুষ্ক চোখ, আলোয় সংবেদনশীলতা, মাথাব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, বমি বমি ভাব বা বমি ইত্যাদি।

  • গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (অবিলম্বে ডাক্তার দেখান):

    • চোখে তীব্র ব্যথা, দৃষ্টিশক্তির দ্রুত অবনতি, বা অ্যালার্জির গুরুতর লক্ষণ (শ্বাসকষ্ট, মুখ-ঠোঁট ফোলা) দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • নেপাফেনাক বা এর যেকোনো উপাদানে অতি সংবেদনশীলতা (অ্যালার্জি) থাকলে।

  • অ্যাসপিরিন বা অন্যান্য NSAID (যেমন আইবুপ্রোফেন, ন্যাপরোক্সেন, ডাইক্লোফেনাক) ব্যবহারের পর হাঁপানি বা অ্যালার্জির ইতিহাস থাকলে।

  • গর্ভাবস্থার তৃতীয় ত্রৈমাসিকে (শেষ ৩ মাস) এটি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ

  • গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় নেপাফেনাক সাধারণত সুপারিশ করা হয় না। প্রাণিদের গবেষণায় কিছু ঝুঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে। শেষ ত্রৈমাসিকে এটি বিশেষভাবে নিষিদ্ধ, কারণ এটি গর্ভস্থ শিশুর হার্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী (ডাক্টাস আর্টেরিওসাস) অকালে বন্ধ করে দিতে পারে।

  • স্তন্যদান: চোখে ব্যবহারের পর নেপাফেনাক মায়ের রক্তে খুবই নগণ্য পরিমাণে মেশে, তাই স্তন্যদানকালে এটি ব্যবহার সম্ভবত নিরাপদ। তবুও, ব্যবহারের আগে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন

নেপাফেনাক অন্যান্য ওষুধের সাথে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে। আপনি যদি নিচের কোনো ওষুধ সেবন করে থাকেন তবে আপনার চোখের ডাক্তারকে জানান:

  • রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধক বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ (যেমন ওয়ারফারিন, অ্যাসপিরিন, ক্লোপিডোগ্রেল) – রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

  • চোখে ব্যবহার্য কর্টিকোস্টেরয়েড (যেমন ডিফ্লুপ্রেডনেট) – ক্ষত শুকাতে দেরি হতে পারে।

  • অন্যান্য চোখের ড্রপ – একসাথে ব্যবহার করলে অন্তত ৫ মিনিটের ব্যবধান রাখতে হবে

মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই। চোখে অতিরিক্ত ড্রপ পড়লে চোখ ধুয়ে ফেলতে পারেন। তবে, ভুলবশত কেউ মুখে খেয়ে ফেললে বা অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে কোনো গুরুতর সমস্যা দেখা দিলে অবিলম্বে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।