CoralCal Vita

Effervescent Tablet

Price Information

MRP
16's pot ৳ 272.00
Advertisement

Coral Calcium হলো সমুদ্রের গভীরে লক্ষ বছর ধরে জমে থাকা প্রাচীন প্রবাল প্রাচীর থেকে তৈরি ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO₃)। এটি সাধারণ ক্যালসিয়ামের মতো দেখতে হলেও আসলে অনেক বেশি কার্যকর — কারণ এর গঠন আমাদের হাড়ের সাথে প্রায় হুবহু মিলে যায়। তাই শরীর একে অনেক সহজে এবং দ্রুত গ্রহণ করতে পারে।

এর মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই ম্যাগনেসিয়াম ও ৭০টিরও বেশি খনিজ উপাদান থাকে, যা হাড় মজবুত করতে ও শরীরের বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে।

Vitamin D3 (Cholecalciferol) হলো সেই ভিটামিন যা আমাদের শরীর সূর্যের আলো পেলে নিজেই তৈরি করে। এটি যকৃতে ও কিডনিতে গিয়ে সক্রিয় হয়।

  • অস্টিওপোরোসিস ও হাড় নরম হওয়া: বয়স বাড়লে হাড় যখন ক্ষয় হতে থাকে, বিশেষত মেনোপজের পর মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে বেশি দরকার।
  • শিশুদের রিকেটস: পুষ্টির অভাবে শিশুর হাড় বেঁকে গেলে বা দুর্বল হলে।
  • পেশির খিঁচুনি (Tetany): রক্তে ক্যালসিয়াম হঠাৎ কমে গেলে পেশি কামড়ে ধরে — সেই সময় এটি দ্রুত কাজ করে।
  • যারা দুধ খেতে পারেন না: ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকলে বা নিরামিষভোজী হলে এই সাপ্লিমেন্ট ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে।
  • ঘরে বসে থাকা বয়স্করা: যারা বাইরে যান না, রোদ পান না — তাদের D3 এর ঘাটতি হয় বলে এটি জরুরি।
  • কিডনি রোগে: রক্তে ফসফেট বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে এটি ব্যবহার হয়।
  • মেজাজ ভালো রাখতে: D3 মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, বিষণ্নতার ঝুঁকি কমায়।

এই ওষুধ বন্ধ করলে কোনো withdrawal বা আসক্তির সমস্যা হয় না — সম্পূর্ণ নিরাপদ।

কোরাল ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি৩ এর সঠিক ডোজ এবং প্রয়োগ পদ্ধতি রোগীর বয়স, লিঙ্গ এবং ক্যালসিয়ামের ঘাটতির তীব্রতার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয় । চিকিৎসাবিজ্ঞানের নীতি অনুযায়ী, মানবদেহ একক মাত্রায় সর্বোচ্চ 500 mg এলিমেন্টাল ক্যালসিয়াম শোষণ করতে পারে, যার ফলে দৈনিক মোট মাত্রাকে বিভক্ত ডোজে সেবন করা সবচেয়ে যৌক্তিক ।

  • ট্যাবলেট সেবনের সাধারণ মাত্রা: সাধারণত ১টি করে ট্যাবলেট দিনে একবার বা দুবার (সকালে এবং রাতে) পর্যাপ্ত পানির সাথে সেবন করা উচিত ।
  • ইফারভেসেন্ট ট্যাবলেট সেবনের নিয়ম: ১টি ইফারভেসেন্ট ট্যাবলেট এক গ্লাস সাধারণ পানিতে ছেড়ে দিলে তা বুদবুদ আকারে সম্পূর্ণ দ্রবীভূত হয়ে যাবে, এরপর চামচ দিয়ে নেড়ে দ্রবণটি পান করতে হবে 

     এই কম্বিনেশনটি অবশ্যই ভরা পেটে অর্থাৎ প্রধান খাবারের পরপর বা খাবার খাওয়ার ১ ঘণ্টার মধ্যে সেবন করা উচিত । খাবারের পর পাকস্থলীতে নিঃসৃত হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ক্যালসিয়াম কার্বোনেটকে দ্রবীভূত করে এর সর্বোচ্চ শোষণ নিশ্চিত করে

  • দীর্ঘদিন খেলে: মাঝে মাঝে রক্তে ক্যালসিয়াম ও কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করান — বিশেষত বয়স্কদের জন্য এটা জরুরি।
  • সারকোইডোসিস রোগীরা: শরীরে D3 দ্রুত সক্রিয় হয়ে ক্যালসিয়াম বেড়ে যেতে পারে — কড়া নজরদারি দরকার।
  • শয্যাশায়ী রোগীরা: শরীর নড়াচড়া না করলে হাড় থেকে ক্যালসিয়াম আপনাআপনি রক্তে চলে আসে — সাপ্লিমেন্ট দিলে আরও বাড়তে পারে।
  • আয়রন ট্যাবলেটের সাথে: একসাথে খেলে দুটোর কোনোটাই ঠিকমতো কাজ করে না — অন্তত ৪ ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন।
  • গাড়ি চালানো: কেউ কেউ সেবনের পর ঝিমুনি অনুভব করেন — সেক্ষেত্রে গাড়ি বা ভারী যন্ত্র চালাবেন না।

অন্য কোনো ক্যালসিয়াম বা D3 সাপ্লিমেন্ট একসাথে খাবেন না — মাত্রা দ্বিগুণ হয়ে ক্ষতি করতে পারে।

সাধারণত যা হয় (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মৃদু):

  • কোষ্ঠকাঠিন্য — সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বেশি পানি ও আঁশযুক্ত খাবার খেলে কমে।
  • পেট ফাঁপা, গ্যাস, বমি বমি ভাব বা হালকা বমি
  • পেটে মৃদু অস্বস্তি বা ব্যথা
  • ত্বকে চুলকানি বা র‍্যাশ (D3 এর কারণে কখনো কখনো)

বেশি মাত্রায় দীর্ঘদিন খেলে যা হতে পারে (Hypercalcemia):

  • অনেক বেশি তেষ্টা পাওয়া ও ঘন ঘন প্রস্রাব
  • মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, মুখ শুকিয়ে যাওয়া
  • ক্ষুধা কমে যাওয়া, হার্টের ছন্দ এলোমেলো হওয়া
  • মানসিক বিভ্রান্তি বা ঝিমুনি
  • রক্তে ক্যালসিয়াম বেশি (Hypercalcemia): আগে থেকেই বেশি থাকলে আরও দিলে বিপদ।
  • প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম বেশি (Hypercalciuria): কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
  • কিডনিতে পাথর বা কিডনি বিকল: একদমই দেওয়া যাবে না।
  • Digoxin খাচ্ছেন যারা: হৃদরোগের এই ওষুধের সাথে মিলে মারাত্মক হার্টের সমস্যা হতে পারে।
  • ভিটামিন D বিষাক্ততা আছে: শরীরে ইতিমধ্যে D3 অনেক বেশি জমা থাকলে।
  • প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থির অতিসক্রিয়তা, সারকোইডোসিস বা টিস্যুতে ক্যালসিয়াম জমা।
  • এই ওষুধে আগে কখনো অ্যালার্জি হয়ে থাকলে।

উপরের যেকোনো সমস্যা থাকলে ডাক্তারকে আগেই জানান। নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নেবেন না।

গর্ভে বাচ্চার হাড় ও দাঁত তৈরিতে মায়ের শরীর থেকে অনেক ক্যালসিয়াম চলে যায়। তাই এই সময় চাহিদা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।

  • WHO সরাসরি সুপারিশ করেছে — গর্ভের শুরু থেকে প্রসব পর্যন্ত ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট নিন।
  • গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ (প্রি-এক্লাম্পসিয়া) এর ঝুঁকি প্রায় অর্ধেক কমে যায়।
  • ভারত ও তানজানিয়ায় ২২,০০০ গর্ভবতী মায়ের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে — দিনে মাত্র ৫০০ মিলিগ্রামই ১৫০০ মিলিগ্রামের মতোই কার্যকর।
  • বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও D3 দুধের মাধ্যমে শিশুর কাছে পৌঁছায়।

অতিরিক্ত D3 ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে মাত্রা বাড়াবেন না।

  • অ্যান্টিবায়োটিক (Tetracycline, Ciprofloxacin): একসাথে খেলে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। কমপক্ষে ৩ ঘণ্টা আগে বা পরে খান।
  • থাইরয়েডের ওষুধ (Levothyroxine): ক্যালসিয়াম এটাকে শুষে নেয়। ৪ ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন।
  • Digoxin (হার্টের ওষুধ): ক্যালসিয়াম বেশি হলে Digoxin বিষাক্ত হয়ে মারাত্মক হার্টের ছন্দ নষ্ট করতে পারে।
  • Thiazide diuretics (মূত্রবর্ধক): কিডনি থেকে ক্যালসিয়াম বের হতে পারে না — রক্তে ক্যালসিয়াম বিপজ্জনক মাত্রায় বাড়তে পারে।
  • আয়রন ট্যাবলেট: একসাথে খেলে দুটোই নষ্ট — আলাদা সময়ে খান।
  • খিঁচুনির ওষুধ ও স্টেরয়েড: এগুলো D3 এর কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।
  • পালং শাক, বিট ও লাল আটা: এদের মধ্যের অ্যাসিড ক্যালসিয়ামকে বেঁধে ফেলে শোষণ বন্ধ করে দেয়। এসব খাবারের ২ ঘণ্টা পর ক্যালসিয়াম খান।

দিনে ২৫০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যালসিয়াম বা ৪০০০ IU-র বেশি D3 দীর্ঘদিন খেলে শরীরে বিষের মতো কাজ করতে পারে।

যে লক্ষণগুলো দেখবেন:

  • খুব বেশি তেষ্টা ও ঘন ঘন প্রস্রাব
  • মাথা ঘোরা, বমি, পেট খারাপ বা কোষ্ঠকাঠিন্য
  • হার্টের ছন্দ এলোমেলো, মানসিক বিভ্রান্তি
  • কিডনিতে পাথর জমা
  • চরম ক্ষেত্রে — কোমা বা হার্ট ফেইলিউর

করণীয়: সাথে সাথে ওষুধ বন্ধ করুন, দ্রুত ডাক্তারের কাছে যান। শরীর থেকে বের করতে প্রচুর পানি ও স্যালাইন দেওয়া হয়, প্রয়োজনে মূত্রবর্ধক ওষুধ ব্যবহার করা হয়।