Benzit
0.5 mg + 10 mg
Price Information
MRPফ্লুপেনটিক্সল এবং মেলিট্রাসেনের এই সংমিশ্রণটি মূলত মস্তিস্কের রাসায়নিক ভারসাম্য ঠিক করে মানুষের মন খারাপ, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, ক্লান্তি ও উদাসীনতা দূর করার একটি কার্যকরী ট্যাবলেট। এর ভেতরের ফ্লুপেনটিক্সল উপাদানটি মস্তিষ্কের ডোপামিন রিসেপ্টরকে নিয়ন্ত্রণ করে কোনো ধরনের ঝিমুনি ছাড়াই মনের অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তা দূর করে; অন্যদিকে মেলিট্রাসেন উপাদানটি সেরোটোনিন ও নোরএপিনেফ্রিনের মতো কেমিক্যালের পরিমাণ বাড়িয়ে শরীর ও মনে নতুন উদ্দীপনা ও শক্তি জোগায়। ওষুধটি খাওয়ার মাত্র ৪ ঘণ্টার মধ্যে রক্তে পুরোপুরি মিশে যায় এবং শরীরে দীর্ঘ সময় (১৯ থেকে ৩৫ ঘণ্টা) স্থায়ী হয়ে কাজ করে।
Flupentixol–Melitracen নিম্নলিখিত রোগগুলোতে ব্যবহৃত হয়:
- উদ্বেগ (অ্যাংজাইটি): উদ্বেগ বা অস্থিরতার অনুভূতি কমাতে।
- ডিপ্রেশন (বিষণ্নতা): বিষণ্নতার লক্ষণ (মাইন্ড নিঃসঙ্গতা, উদাসীন ভাব, হতাশা) উপশমে।
- অমনতা ও ক্লান্তি (Asthenia): উদ্যমশক্তি কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তিতে সান্ত্বনা দেবার জন্য।
- সাইকোসোম্যাটিক/মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধি: মন–শরীরের সংযুক্ত সমস্যায় উদ্বেগ ও বিষণ্নতা নিয়ন্ত্রণে।
- মেনোপজাল বিষণ্নতা: ঋতুবন্ধের সময় দুঃসময়ে মনোভাব নিয়ন্ত্রণে।
- মাদকাসক্তি/মদ্যপদের অবসাদ: মাদকের নেশার সাথে সংযুক্ত অপ্রিয় অনুভূতি ও হতাশা হ্রাসে।
- সাধারণ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য: শুরুতেই সাধারণত প্রতিদিন ২টি করে ট্যাবলেট খেতে দেওয়া হয়—১টি সকালে আর ১টি দুপুরে খাবারের পর। সমস্যা যদি অনেক বেশি হয়, তবে ডাক্তারের পরামর্শে সকালে ২টি আর দুপুরে ১টি বা ২টি খাওয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখবেন, দিনে কোনোভাবেই ৪টি ট্যাবলেটের বেশি খাওয়া যাবে না।রোগ নিয়ন্ত্রণে চলে আসলে ডাক্তার সাধারণত প্রতিদিন সকালে মাত্র ১টি করে ট্যাবলেট চালু রাখেন।
- বয়স্কদের জন্য (৬৫ বছরের বেশি): বয়স বেশি হলে শরীর সহজে ওষুধ সহ্য করতে পারে না। তাই শুরুতে প্রতিদিন সকালে মাত্র ১টি ট্যাবলেট দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা হয়। পরে প্রয়োজন হলে সকালে ১টি এবং দুপুরে ১টি করে খাওয়া যেতে পারে।
এই ওষুধের মেলিট্রাসেন উপাদানটি শরীর ও মনকে চাঙ্গা করে তোলে। তাই এটি দুপুরের পর বা বিশেষ করে বিকাল ৪টার পরে খেলে রাতের ঘুমে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে।ট্যাবলেটটি চিবিয়ে বা গুঁড়ো করে খাওয়া যাবে না; পুরো ১ গ্লাস পানি দিয়ে একবারে গিলে খেতে হবে।
মৃগীরোগ বা খিঁচুনির ইতিহাস থাকলে, প্রস্টেটের সমস্যা, থাইরয়েড বা গুরুতর লিভারের রোগ থাকলে চিকিৎসককে আগেই জানাতে হবে। ডায়াবেটিস থাকলে রক্তের সুগার নিয়মিত পরীক্ষা করুন কারণ এই ওষুধ ইনসুলিনের কার্যকারিতা প্রভাবিত করতে পারে। হৃদরোগ বা রক্তে পটাশিয়াম-ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি থাকলে হার্টের ছন্দে সমস্যা (QT Prolongation) হতে পারে — তাই বিশেষ নজরদারি দরকার।
যেকোনো অস্ত্রোপচারের আগে ডাক্তার ও অ্যানেস্থেটিস্টকে জানান যে এই ওষুধ চলছে। চিকিৎসার শুরুতে যদি আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় আসে, অবিলম্বে চিকিৎসককে জানান। দীর্ঘদিন খেলে রক্ত পরীক্ষা (CBC) ও চোখ নিয়মিত পরীক্ষা করানো উচিত।
সঠিক মাত্রায় খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত কম এবং সাময়িক।
সাধারণ যা হতে পারে — মুখ শুকিয়ে যাওয়া, সামান্য কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি ভাব, মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড়ানি, হালকা ছটফটানি বা রাতে ঘুম না হওয়া।
দীর্ঘমেয়াদে বা সংবেদনশীল রোগীদের হাত-পা কাঁপুনি, পেশী শক্ত হয়ে যাওয়া, ওজন বাড়া, লিভার এনজাইম বেড়ে যাওয়া বা বিরল ক্ষেত্রে রক্তকণিকা কমে যেতে পারে। এগুলো দেখা দিলে চিকিৎসককে জানানো জরুরি।
হার্ট অ্যাটাকের পরপরই সুস্থতার পর্যায়ে থাকলে, হার্টের কন্ডাকশন সমস্যা বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন থাকলে এটি নেওয়া যাবে না। কোমা বা জ্ঞানহীন অবস্থায়, অ্যালকোহল বা মাদকে বিষক্রিয়ার মধ্যে থাকলেও নিষিদ্ধ। সংকীর্ণ কোণ গ্লুকোমা (চোখের বিশেষ চাপের রোগ) থাকলে অন্ধত্বের ঝুঁকি থাকায় এটি দেওয়া যায় না। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে MAOI জাতীয় ওষুধ খেয়ে থাকলে এবং অতি উত্তেজিত বা উন্মাদনাগ্রস্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও এটি নিষেধ।
গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে এই ওষুধ চললে নবজাতকের কাঁপুনি, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘুম ও দুধ না খাওয়ার সমস্যা হতে পারে। তাই প্রসবের অন্তত ১৪ দিন আগে থেকে ধীরে ধীরে ওষুধ কমিয়ে বন্ধ করতে হবে।
বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এই ওষুধ এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। ফ্লুপেনটিক্সল সামান্য মাতৃদুগ্ধে আসে, কিন্তু মেলিট্রাসেন চর্বিতে দ্রবণীয় হওয়ায় দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে প্রবেশ করার আশঙ্কা থাকে। তাই এই সময়ে হয় ওষুধ বন্ধ রাখুন, নয়তো বুকের দুধ দেওয়া বন্ধ রাখুন — দুটো একসাথে চলবে না।
MAOI ওষুধের সাথে একসাথে নেওয়া প্রাণঘাতী হতে পারে — মস্তিষ্কে সেরোটোনিন সিন্ড্রোম হয়। নাকের ড্রপ বা সর্দির ওষুধে থাকা ফিনাইলএফ্রিন এবং অ্যানেস্থেশিয়ায় ব্যবহৃত অ্যাড্রেনালিনের রক্তচাপ বাড়ানোর প্রভাব এই ওষুধ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, যা হৃদঘাতের কারণ হতে পারে। অ্যালকোহল ও ঘুমের ওষুধের সাথে নিলে ঘুমের প্রভাব মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। রক্তচাপের কিছু ওষুধ (গুয়ানেথিডিন, ক্লোনিডিন) এর সাথে কার্যকারিতা হারায়। SSRI জাতীয় এন্টিডিপ্রেসেন্টের সাথে নিলে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
বেশি খেয়ে ফেললে দ্রুত হৃদস্পন্দন, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, চোখের মণি বড় হয়ে যাওয়া, প্রস্রাব আটকে যাওয়া, হ্যালুসিনেশন, খিঁচুনি এবং গুরুতর অবস্থায় কোমা পর্যন্ত হতে পারে। এর কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই — তাই সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে পাকস্থলী ধুয়ে (গ্যাস্ট্রিক ল্যাভেজ) ও অ্যাক্টিভেটেড চারকোল দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় — এই অবস্থায় রক্তচাপ বাড়াতে কখনো অ্যাড্রেনালিন (এপিনেফ্রিন) দেওয়া যাবে না, কারণ এটে বিপদ আরও বাড়ে।
৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় শুকনো জায়গায় রাখুন। আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখতে আসল ফয়েল প্যাকেট থেকে বের করবেন না। সবচেয়ে জরুরি হলো শিশুদের হাতের নাগালের বাইরে রাখুন।