Syrup dosage form

Alartn

Syrup

Price Information

MRP
60 ml bottle ৳ 30.00
Advertisement

সেটিরিজিন হাইড্রোক্লোরাইড (Cetirizine Hydrochloride/Dihydrochloride) একটি দ্বিতীয় প্রজন্মের অ্যান্টিহিস্টামিন, যা অ্যালার্জিজনিত বিভিন্ন উপসর্গ যেমন হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ ও ত্বকের চুলকানি, চোখ লাল হওয়া এবং আর্টিকারিয়া (হাইভস) উপশম করতে ব্যবহৃত হয়। এটি শরীরে অ্যালার্জির জন্য দায়ী হিস্টামিন নামক রাসায়নিক পদার্থের H1 রিসেপ্টরের ওপর কার্যকারিতা বাধা দেয়, ফলে অ্যালার্জির লক্ষণগুলো কমে যায়। সেটিরিজিন দ্রুত কাজ শুরু করে, সাধারণত সেবনের প্রায় ১ ঘণ্টার মধ্যে এর প্রভাব দেখা যায় এবং এর কার্যকারিতা প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। এটি প্রথম প্রজন্মের অ্যান্টিহিস্টামিনের তুলনায় মস্তিষ্কে কম প্রবেশ করে, তাই সাধারণত কম ঝিমুনি বা ঘুমের ভাব সৃষ্টি করে। ওষুধটি মুখে খাওয়ার পর দ্রুত শোষিত হয় এবং প্রধানত কিডনির  মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। Cetirizine Hydrochloride বা Cetirizine Dihydrochloride নামে বাজারজাত হলেও উভয়ের চিকিৎসাগত কার্যকারিতা একই।।ট্যাবলেট, সিরাপ ও ড্রপসহ বিভিন্ন মাত্রা ও রূপে এটি পাওয়া যায় এবং শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের ক্ষেত্রেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিরাপদে ব্যবহার করা যায়।

সেটিরিজিন মূলত অ্যালার্জিজনিত  লক্ষণগুলো উপশমের জন্য নির্দেশিত হয়:

  • ঋতুভিত্তিক অ্যালার্জিক রাইনাইটিস: বাতাসে উড়ে আসা পরাগরেণু বা অ্যালার্জেনের কারণে সৃষ্ট অনবরত হাঁচি, নাক চুলকানো, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হয়ে পানি ঝরার চিকিৎসায় ।
  • সারাবছরের অ্যালার্জিক রাইনাইটিস: ঘরের ধূলিকণা, পোষা প্রাণীর লোম বা ছত্রাকের কারণে বছরজুড়ে স্থায়ী অ্যালার্জির লক্ষণ উপশমে । এটি সাধারণত ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত অত্যন্ত সফলভাবে ব্যবহার করা যায় ।
  • ক্রনিক ইডিওপ্যাথিক আর্টিক্যারিয়া: কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ত্বকে তীব্র চুলকানিযুক্ত লালচে চাকা চাকা বা আমবাত দেখা দিলে তা দ্রুত দূর করতে এটি ব্যবহৃত হয় ।
  • অ্যালার্জেন-জনিত হাঁপানি: মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের অ্যাজমায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে শ্বাসনালীর সংকোচন রোধ করতে এটি সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করে । এটি ফুসফুসের স্বাভাবিক ক্রিয়ায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না ।
  • অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস: চোখের তীব্র চুলকানি ও অ্যালার্জি দূর করতে এর ০.২৪% অফথালমিক সলিউশন অত্যন্ত কার্যকরী।
বয়সদৈনিক মাত্রা
১২ বছর ও উপরে১০ মিগ্রা — দিনে একবার
৬–১১ বছর৫ মিগ্রা — দিনে দুইবার
২–৫ বছর২.৫ মিগ্রা — দিনে দুইবার
৬–২৩ মাস২.৫ মিগ্রা — দিনে একবার
৬ মাসের নিচেনিরাপত্তা প্রমাণিত নয় — দেওয়া উচিত নয়

সর্বোচ্চ মাত্রা দিনে ১০ মিগ্রা। নিজে নিজে বেশি খাবেন না। খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়া উভয়ভাবেই সেটিরিজিন সেবন করা যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নির্ধারিত মাত্রার বেশি গ্রহণ করা উচিত নয়।

কিডনির সমস্যা থাকলে

ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্সমাত্রা
>৫০ মিলি/মিনিটস্বাভাবিক — ১০ মিগ্রা একবার
৩০–৫০৫ মিগ্রা একবার
১১–৩০৫ মিগ্রা প্রতি ৪৮ ঘণ্টায় একবার
≤১০ব্যবহার নিষিদ্ধ

চোখের ড্রপ

সেটিরিজিন ০.২৪% চোখের ড্রপ ২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে আক্রান্ত চোখে ১ ফোঁটা করে দিনে ২ বার (প্রায় ৮ ঘণ্টা ব্যবধানে) ব্যবহার করা হয়।

 

  • গাড়ি চালানো: প্রথমবার খেয়ে দেখুন কেমন লাগছে — কারো কারো ঘুম ঘুম ভাব হয়। সেরকম হলে গাড়ি বা ভারী যন্ত্রপাতি চালাবেন না।
  • মদ ও ঘুমের ওষুধ: অ্যালকোহল বা ঘুমের ওষুধের (বেনজোডায়াজেপিন, অপিওড) সাথে নিলে ঘুম ঘুম ভাব অনেক বেড়ে যায় — একসাথে এড়িয়ে চলুন।
  • কিডনির সমস্যা: কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে ডাক্তারকে আগেই জানান, মাত্রা কমানো লাগতে পারে।
  • মৃগীরোগ: খিঁচুনির প্রবণতা থাকলে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন।
  • হঠাৎ বন্ধ করলে সমস্যা: মাসের পর মাস খেলে হঠাৎ বন্ধ করবেন না — তীব্র চুলকানি ফিরে আসতে পারে (FDA সতর্কতা)। ডাক্তারের পরামর্শে আস্তে আস্তে বন্ধ করুন।
  • কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা: অফথালমিক সলিউশনে প্রিজারভেটিভ হিসেবে ব্যবহৃত 'বেনজালকোনিয়াম ক্লোরাইড' নরম কন্ট্যাক্ট লেন্স দ্বারা শোষিত হতে পারে । তাই ড্রপ ব্যবহারের অন্তত ১০ মিনিট আগে কন্ট্যাক্ট লেন্স খুলে ফেলতে হবে এবং চোখ লাল থাকলে লেন্স পরা সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলতে হবে ।

সাধারণ (বেশি দেখা যায়)

  • ঘুম ঘুম ভাব বা ক্লান্তি
  • মুখ শুকিয়ে যাওয়া
  • মাথাব্যথা (শিশুদের ক্ষেত্রে একটু বেশি)
  • গলা শুকনো লাগা বা গলাব্যথা
  • হালকা মাথা ঘোরা

কম দেখা যায়

  • বদহজম, বমি বমি ভাব
  • চোখের ড্রপ ব্যবহারে চোখ লাল বা ব্যথা
  • মনোযোগ কমে যাওয়া

বিরল — এগুলো হলে সাথে সাথে ডাক্তার দেখান

  • মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট (অ্যানাফিল্যাক্সিসের মতো প্রতিক্রিয়া)
  • হার্টবিট অস্বাভাবিক হওয়া বা রক্তচাপের সমস্যা
  • যকৃতের এনজাইম বেড়ে যাওয়া বা পিত্তনালী ব্লক
  • রক্তের প্লেটলেট কমে যাওয়া
  • শিশুদের ক্ষেত্রে হ্যালুসিনেশন বা অস্বাভাবিক উত্তেজনা

হঠাৎ মুখ বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে — দেরি না করে জরুরি বিভাগে যান।

নিচের ক্ষেত্রে সেটিরিজিনের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ:

  • অতিসংবেদনশীলতা: সেটিরিজিন, লেভোসেটিরিজিন, হাইড্রোক্সিজিন বা ওষুধের ফর্মুলেশনে ব্যবহৃত যেকোনো উপাদানের প্রতি অ্যালার্জির ইতিহাস থাকলে।
  • তীব্র কিডনি নিষ্ক্রিয়তা: ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স ১০ mL/min এর কম হলে এই ওষুধটি সেবন করা যাবে না, কারণ এটি মূলত কিডনির মাধ্যমে শরীর থেকে নিষ্কাশিত হয়

যদি আগে কখনো এই ওষুধ খেয়ে গায়ে র‍্যাশ, শ্বাসকষ্ট বা মুখ ফুলে যাওয়ার মতো প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে, তাহলে ডাক্তারকে অবশ্যই জানান।

গর্ভাবস্থা: সেটিরিজিন US FDA ক্যাটাগরি-B শ্রেণীভুক্ত। প্রাণীদের উপর গবেষণায় ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে মানুষের উপর পর্যাপ্ত গবেষণা নেই। তাই গর্ভাবস্থায়, বিশেষত প্রথম তিন মাসে, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাবেন না।

প্রয়োজন ছাড়া গর্ভাবস্থায় কোনো ওষুধই না নেওয়াটাই সবচেয়ে নিরাপদ।

বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়:সেটিরিজিন মায়ের দুধে সামান্য পরিমাণে যায়। অল্প মাত্রায় ও স্বল্পমেয়াদে সাধারণত নিরাপদ মনে করা হয়। তবে বেশি মাত্রায় দীর্ঘদিন খেলে শিশুর ঘুম ঘুম ভাব হতে পারে অথবা মায়ের দুধের পরিমাণ কমে যেতে পারে।

বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েরা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তারপর খাবেন।

সেটিরিজিনের মিথস্ক্রিয়া তুলনামূলক কম, তবু কিছু বিষয়ে সাবধান:

ওষুধ বা পদার্থকী হতে পারে
অ্যালকোহল, ঘুমের ওষুধ (বেনজোডায়াজেপিন), অপিওডঘুম ঘুম ভাব অনেক বেড়ে যায়, মনোযোগ কমে
ভারাপামিল, এরডাফিনিব (P-gp ইনহিবিটার)সেটিরিজিনের ঘুম-প্রভাব আরও বাড়িয়ে দেয়
গ্যাবাপেন্টিনএকসাথে নিলে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের উপর প্রভাব বেড়ে যায়
পিটোলিসান্ট (নারকোলেপসির ওষুধ)সেটিরিজিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় (বিরোধী কাজ)
থিওফাইলিনসেটিরিজিনের শোষণ সামান্য কমতে পারে

আপনি বর্তমানে যত ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট খাচ্ছেন — সব ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টকে জানিয়ে রাখুন।

বেশি খেলে প্রথমে যেসব লক্ষণ দেখা দেয়:

  • অস্বাভাবিক উত্তেজনা বা অস্থিরতা (বিশেষত শিশুদের)
  • পরে প্রচণ্ড ঘুম ঘুম ভাব বা অবসাদ
  • দ্রুত হৃদস্পন্দন
  • মাথা ঘোরা, মনোযোগ হারানো
  • প্রস্রাব আটকে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া

চিকিৎসা ও করণীয়

এর কোনো সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিডোট বা প্রতিষেধক নেই । অতিরিক্ত সেবনের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে গ্যাস্ট্রিক ল্যাভেজের মাধ্যমে পাকস্থলী পরিষ্কার করতে হবে এবং লক্ষণভিত্তিক সহায়ক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে ।

যদি কেউ ভুলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি পরিমাণ খেয়ে ফেলেন — সাথে সাথে নিকটস্থ হাসপাতাল বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। ঘরে বসে বমি করানোর চেষ্টা করবেন না।