Capsule dosage form

Adiponil

120 mg Capsule
Orlistat

120 mg

Price Information

MRP
Pack 2 × 10 = 20's box ৳ 800.00
Per strip: ৳ 400.00
Per unit: ৳ 40.00
Advertisement

অরলিস্ট্যাট হলো অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা কমানোর একটি চমৎকার ওষুধ, যা শরীরের রক্তে না মিশে সরাসরি আমাদের পরিপাকতন্ত্রের ভেতরে কাজ করে। আমরা যখন কোনো তৈলাক্ত বা চর্বিযুক্ত খাবার খাই, তখন এই ওষুধটি পাকস্থলীতে থাকা চর্বি হজমকারী উপাদানগুলোকে সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেয়; যার ফলে খাবারের প্রায় ৩০% চর্বি শরীর শোষণ করতে পারে না এবং তা সরাসরি মলের মাধ্যমে বাইরে বের হয়ে যায়। এভাবে শরীরে ক্যালোরির প্রবেশ কমিয়ে এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে আনে, পুনরায় ওজন বাড়ার ঝুঁকি কমায় এবং পরোক্ষভাবে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস করে, যার প্রায় ৯৭% অংশই পরে মলের সাথে প্রাকৃতিকভাবে শরীর থেকে পুরোপুরি নিষ্ক্রান্ত হয়ে যায়।

অরলিস্ট্যাট ওষুধটি একা একা জাদুর মতো ওজন কমায় না। এটি দীর্ঘমেয়াদে ওজন কমানোর জন্য তখনই সবচেয়ে ভালো কাজ করবে, যখন আপনি নিয়ম মেনে কম চর্বি ও কম ক্যালোরির খাবার খাবেন এবং সাথে নিয়মিত শরীরচর্চা করবেন।

কারা এই ওষুধটি সেবন করতে পারবেন?

  • অতিরিক্ত ওজনের প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি: যাদের বিএমআই (BMI) ৩০ বা তার বেশি। অথবা যাদের বিএমআই ২৭ থেকে ২৮-এর বেশি এবং সেই সাথে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের মতো স্বাস্থ্য সমস্যা আছে।
  • ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী কিশোর-কিশোরী: যেসব কমবয়সী ছেলেমেয়ের ওজন অনেক বেশি এবং শুধু ডায়েট বা ব্যায়াম করে ওজন কমছে না, ডাক্তারের পরামর্শে তারা এটি খেতে পারে।

একটি জরুরি নিয়ম

 ওষুধটি খাওয়া শুরু করার পর ১২ সপ্তাহ (প্রায় ৩ মাস) কেটে গেলেও যদি আপনার শুরুর ওজনের অন্তত ৫% (যেমন: ১০০ কেজি ওজনের মানুষের ক্ষেত্রে ৫ কেজি) না কমে, তবে ওষুধটি খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এর মানে হলো ওষুধটি আপনার শরীরে কাজ করছে না এবং ডাক্তারের সাথে নতুন করে পরামর্শ করা প্রয়োজন।

অরলিস্ট্যাট ওষুধটি থেকে ভালো ফলাফল পেতে হলে এর নিয়ম ও সেবনের মাত্রা সঠিকভাবে মেনে চলা খুব জরুরি।

ওষুধ সেবনের সঠিক নিয়ম ও মাত্রা

  • দৈনিক মাত্রা: ১২ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য সাধারণ নিয়ম হলো—প্রতিদিন ৩ বার ১২০ মিলিগ্রামের (120 mg) একটি করে ক্যাপসুল খাওয়া।
  • কখন খাবেন: সকাল, দুপুর ও রাতের খাবার খাওয়ার  শুরু করার আগে,খাবার চলাকালীন অথবা খাবার শেষ করার ১ ঘণ্টার মধ্যে → যেকোনো সময়ে খাওয়া যায়।
  • কখন ওষুধ খাবেন না: আপনি যদি কোনো বেলার খাবার বাদ দেন (না খান) কিংবা এমন কোনো খাবার খান যাতে কোনো তেল বা চর্বি নেই, তবে সেই বেলার ওষুধটি খাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। 
  • বেশি খেলে বাড়তি লাভ নেই: দিনে ৩ বারের বেশি বা ১২০ মিলিগ্রামের চেয়ে বেশি মাত্রায় ওষুধটি খেলে ওজন কিন্তু দ্রুত কমবে না, বরং শরীরের ক্ষতি হতে পারে।

 

এই ওষুধটি চলাকালীন আপনাকে একটি স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যতালিকা মেনে চলতে হবে।

  • আপনার সারাদিনের খাবারের মোট ক্যালোরির সর্বোচ্চ ৩০% অংশ চর্বি বা তেল থেকে আসতে পারবে। এই চর্বির পরিমাণটি সকাল, দুপুর ও রাতের খাবারে সমানভাবে ভাগ করে নেওয়া উচিত।
  • মনে রাখুন: খাবারে যদি চর্বি বা তেলের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে, তবে পেটের নানাবিধ সমস্যা এবং অস্বস্তিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক বেড়ে যেতে পারে।

মাল্টিভিটামিন সেবন জরুরি

এই ওষুধ ভিটামিন A, D, E, K এর শোষণ কমায়। তাই প্রতিদিন একটি মাল্টিভিটামিন নিন — তবে অরলিস্ট্যাট সেবনের কমপক্ষে ২ ঘণ্টা আগে বা পরে (অথবা রাতে ঘুমানোর আগে)  খেতে হবে 

অরলিস্ট্যাট ব্যবহারের সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ও ঝুঁকি আছে,—

 কিডনির ঝুঁকি

  • অরলিস্ট্যাট কিছু মানুষের ক্ষেত্রে প্রস্রাবে অক্সালেট বাড়িয়ে দিতে পারে
  • এতে কিডনিতে পাথর বা খুব গুরুতর অবস্থায় কিডনি ক্ষতি হতে পারে
  • কারণ: শরীরে চর্বি ঠিকভাবে না ভাঙলে অক্সালেট বেশি শোষিত হয়ে কিডনিতে জমে যায়

তাই যাদের আগে থেকেই কিডনি সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে খুব সতর্ক থাকতে হয় এবং প্রয়োজনে নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা দরকার।


 লিভারের সমস্যা

  • খুব কম ক্ষেত্রে হলেও লিভারের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে
  • লক্ষণগুলো হলো:
    • চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)
    • গাঢ় রঙের প্রস্রাব
    • হালকা রঙের পায়খানা
    • ডান পাশে পেট ব্যথা
    • খুব বেশি ক্লান্তি বা ক্ষুধা কমে যাওয়া

এসব লক্ষণ দেখা দিলে ওষুধ বন্ধ করে দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে।


 অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

  • ওষুধ শুরু করার আগে দেখতে হবে রোগীর স্থূলতার অন্য কোনো কারণ আছে কিনা (যেমন থাইরয়েড সমস্যা)
  • যাদের ডায়াবেটিস আছে, ওজন কমলে তাদের ডায়াবেটিসের ওষুধের ডোজ পরিবর্তন লাগতে পারে
  • যাদের ইটিং ডিজঅর্ডার (অস্বাভাবিক খাবার খাওয়ার সমস্যা) আছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি সাবধানে ব্যবহার করতে হয়

পেটের সমস্যা (সবচেয়ে বেশি দেখা যায়)

  • তৈলাক্ত বা চর্বিযুক্ত মল (৬–২০%)
  • অন্তর্বাসে তৈলাক্ত দাগ (৪–২৭%)
  • হঠাৎ মলত্যাগের বেগ (৩–২২%)
  • পেটে গ্যাস ও অস্বস্তি
  • অনিয়ন্ত্রিত মলত্যাগ (২–৮%)

প্রথম কয়েক সপ্তাহ বেশি থাকে, তারপর কমে আসে।


অন্যান্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

  • মাথাব্যথা, ক্লান্তি, উদ্বেগ
  • অনিয়মিত মাসিক
  • ঘুমের সমস্যা
  • সর্দি-কাশি বা ফ্লু জাতীয় উপসর্গ

চুলকানি, ফুসকুড়ি, আমবাত বা শ্বাসকষ্ট হলে — অ্যালার্জি হতে পারে, সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখান।

  • দীর্ঘস্থায়ী পেটের সমস্যা বা পুষ্টি শোষণে সমস্যা (ম্যালঅ্যাবজরপশন) আছে যাদের।
  • পিত্তথলি বা যকৃতে পিত্ত চলাচল বন্ধ (কোলেস্ট্যাসিস)।
  • ওষুধের যেকোনো উপাদানে অ্যালার্জি আছে যাদের।
  • গর্ভবতী নারী — এটি ভ্রূণের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
  • স্বাভাবিক ওজনের মানুষ — ক্লিনিক্যাল মানদণ্ড না মেললে ব্যবহার করা উচিত নয়।

গর্ভাবস্থায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি FDA "প্রেগন্যান্সি ক্যাটাগরি X" — গর্ভাবস্থায় ওজন কমানো ভ্রূণের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। গর্ভবতী হলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করুন।

স্তন্যদানকালে ব্যবহার; মায়ের দুধে অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে আসতে পারে। তবে এই ওষুধের কারণে মায়ের শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি হলে মায়ের দুধের পুষ্টিগুণ কমে যেতে পারে। তাই স্তন্যদানকালে না নেওয়াই নিরাপদ।

অরলিস্ট্যাট ওষুধটি পেটের ভেতরে কাজ করার সময় চর্বির পাশাপাশি অন্য কিছু ওষুধের শোষণও কমিয়ে দিতে পারে। এর ফলে ওই দরকারি ওষুধগুলো শরীরে ঠিকমতো কাজ নাও করতে পারে।

যেসব ওষুধের সাথে খেলে বাড়তি সাবধানতা দরকার

  • অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ওষুধ (Cyclosporine): যারা কিডনি বা অন্য কোনো অঙ্গ প্রতিস্থাপন (Transplant) করেছেন, তাদের শরীর যেন নতুন অঙ্গটিকে গ্রহণ করতে পারে, সেজন্য এই ওষুধ দেওয়া হয়। অরলিস্ট্যাট এর কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই এই ওষুধটি অরলিস্ট্যাট খাওয়ার কমপক্ষে ৩ ঘণ্টা পর খেতে হবে।
  • থাইরয়েডের ওষুধ (Levothyroxine): অরলিস্ট্যাট এই ওষুধের কাজে বাধা দেয়। ফলে থাইরয়েডের সমস্যা আবার বেড়ে যেতে পারে। তাই থাইরয়েডের ওষুধ এবং অরলিস্ট্যাট খাওয়ার মাঝে কমপক্ষে ৪ ঘণ্টার ব্যবধান রাখতে হবে।
  • রক্ত পাতলা করার ওষুধ (Warfarin): অরলিস্ট্যাট শরীরকে ভিটামিন 'কে' শোষণ করতে দেয় না। এর ফলে রক্ত অতিরিক্ত পাতলা হয়ে শরীর থেকে রক্তপাতের (Bleeding) ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এই দুটি ওষুধ একসাথে চললে ডাক্তারের পরামর্শে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করতে হবে।
  • খিঁচুনির ওষুধ: মৃগীরোগ বা খিঁচুনির কিছু ওষুধ (যেমন: ভ্যালপ্রোয়েট, গ্যাবাপেন্টিন) অরলিস্ট্যাটের কারণে শরীর ঠিকমতো গ্রহণ করতে পারে না। ফলে হঠাৎ খিঁচুনির সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
  • হার্ট ও এইচআইভি (HIV)-র ওষুধ: হার্টের ওষুধ 'অ্যামিওড্যারন' এবং এইচআইভি-র কিছু বিশেষ ওষুধের কার্যক্ষমতা অরলিস্ট্যাটের কারণে কমে যেতে পারে।

যেসব ওষুধ সম্পূর্ণ নিরাপদ (কোনো সংঘাত নেই)

  • ডায়াবেটিসের ওষুধ: মেটফরমিন, গ্লিবেনক্লামাইড ইত্যাদি।
  • প্রেশার ও হার্টের ওষুধ: অ্যাটেনোলল, ক্যাপটোপ্রিল, নিফেডিপিন, ডিগক্সিন ইত্যাদি।
  • কোলেস্টেরলের ওষুধ: প্রাভাস্ট্যাটিন বা ফাইব্রেটস জাতীয় ওষুধ।
  • অন্যান্য: জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি (Birth control pills) এবং সাধারণ গ্যাসের বা অ্যাসিডিটির ওষুধ। এমনকি এটি শরীরের অ্যালকোহলের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।

আপনি যদি নিয়মিত অন্য যেকোনো রোগের ওষুধ খেয়ে থাকেন, তবে অরলিস্ট্যাট শুরু করার আগে আপনার ডাক্তারকে তা অবশ্যই জানান। কোনো ওষুধের মাঝে কতটুকু সময়ের গ্যাপ বা বিরতি রাখতে হবে, তা ডাক্তারই আপনাকে সবচেয়ে ভালো বুঝিয়ে দিতে পারবেন।

গবেষণায় দেখা গেছে — নির্দেশিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি (দিনে ৪০০ মিগ্রা করে ১৫ দিন পর্যন্ত) খেলেও মারাত্মক বিষক্রিয়া হয়নি। তবুও যদি অনেক বেশি খেয়ে ফেলেন — ২৪ ঘণ্টার জন্য ডাক্তারের পর্যবেক্ষণে থাকুন এবং উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা নিন।