Oral Solution dosage form

Abdolax Max

Oral Solution

Price Information

MRP
15 ml bottle ৳ 175.00
Advertisement

সোডিয়াম পিকোসালফেট হলো ট্রাইঅ্যারাইলমিথেন গোত্রের একটি সিন্থেটিক উদ্দীপক রেচক বা স্টিমুল্যান্ট ল্যাক্সেটিভ। এটি একটি প্রোড্রাগ, অর্থাৎ এটি খাওয়ার সময় নিষ্ক্রিয় থাকে এবং পরিপাকতন্ত্রের ঊর্ধ্বভাগ দিয়ে যাওয়ার সময় শোষিত হয় না। যখন এটি কোলনে বা বৃহদন্ত্রে পৌঁছায়, তখন সেখানে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে এটি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং এর কাজ শুরু করে

 

সোডিয়াম পিকোসালফেট প্রধানত পরিপাকতন্ত্রের নিম্নোক্ত ক্লিনিক্যাল জটিলতা এবং শারীরিক প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে নির্দেশিত হয়:

  • কোষ্ঠকাঠিন্যের তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী উপশম: যেকোনো কারণে সৃষ্ট তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য, দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার ফিরে আসা (Prolonged & Recurrent) কোষ্ঠকাঠিন্যের স্বল্পমেয়াদী উপশম এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক চলন ফিরিয়ে আনতে এটি ব্যবহৃত হয়.
  • ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার প্রস্তুতি: কোলোনোস্কোপির মাধ্যমে কোলন ক্যান্সার বা অন্ত্রের অন্যান্য রোগ নির্ণয় করার পূর্বে অন্ত্রকে সম্পূর্ণরূপে মলমুক্ত ও পরিষ্কার করতে এটি ব্যবহৃত হয়.
  • শল্যচিকিৎসা ও প্রসবকালীন প্রস্তুতি: যেকোনো পেটের প্রধান অস্ত্রোপচার (Surgery), সন্তান প্রসব (Childbirth) কিংবা রেডিওলজিক্যাল ইনভেস্টিগেশন (যেমন বেরিয়াম এনিমা বা এক্স-রে) করার আগে অন্ত্র সম্পূর্ণ খালি করার জন্য এটি চিকিৎসকের নির্দেশনায় ব্যবহৃত হয়.

চিকিৎসাক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন যেমন খাদ্যতালিকায় আঁশযুক্ত খাবারের অনুপাত বৃদ্ধি, দৈনিক পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান এবং শারীরিক সক্রিয়তা বৃদ্ধির পরামর্শ দেওয়া হয়. এই প্রাথমিক পরিবর্তনগুলোতে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে বাল্ক-ফরমিং (যেমন ইসবগুলের ভূষি) এবং অসমোটিক ল্যাক্সেটিভ (যেমন ল্যাকটুলোজ) ব্যবহার করা হয়. উদ্দীপক ল্যাক্সেটিভ হিসেবে সোডিয়াম পিকোসালফেট কেবল তখনই নির্দেশিত হয় যখন পূর্ববর্তী নিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো ব্যর্থ হয়.

সাধারণ কোষ্ঠকাঠিন্যে (রাতে ঘুমানোর আগে খাবেন):

  • বড়রা ও ১০ বছরের বেশি বয়সের শিশু: ৫–১০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট বা ৫–১০ মি.লি. সিরাপ
  • ৪ থেকে ১০ বছরের শিশু: ২.৫–৫ মি.গ্রা. ট্যাবলেট বা ২.৫–৫ মি.লি. সিরাপ
  • ১ মাস থেকে ৪ বছর: শরীরের ওজন অনুযায়ী, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দেবেন না

কলোনস্কোপির জন্য: 

এক্ষেত্রে সাধারণত 'স্প্লিট-ডোজ' বা 'ডে-বিফোর' পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ে দুটি ডোজ নিতে হয় এবং সাথে প্রচুর পরিমাণ (অন্তত ১-২ লিটার) পানি বা স্বচ্ছ তরল পান করতে হয়

চিকিৎসকদের জন্য সোডিয়াম পিকোসালফেট প্রয়োগের ক্ষেত্রে রোগীর হেমোডাইনামিক স্থিতিশীলতা এবং ইলেক্ট্রোলাইট স্তরের দিকে নিবিড় নজর রাখা প্রয়োজন.

  • অর্থোস্ট্যাটিক রক্তচাপের পরিবর্তন: ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালসমূহে দেখা গেছে যে, সোডিয়াম পিকোসালফেট ব্যবহারের পর প্রায় ২০% প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৯ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোর রোগীদের ক্ষেত্রে অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন (Orthostatic Changes - হঠাৎ দাঁড়ানোর ফলে রক্তচাপ বা হার্ট রেট তীব্রভাবে কমে যাওয়া) পরিলক্ষিত হয়. এই অর্থোস্ট্যাটিক পরিবর্তন কোলোনোস্কোপি সম্পন্ন করার পর প্রায় ৫ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে. তাই কার্ডিওভাসকুলার রোগ বা কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিউরে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তরল প্রতিস্থাপন করতে হবে.
  • খিঁচুনির ঝুঁকি: গুরুতর ইলেক্ট্রোলাইট অসঙ্গতি (বিশেষ করে হাইপোনেট্রেমিয়া বা রক্তে সোডিয়াম কমে যাওয়া এবং হাইপোক্যালেমিয়া বা রক্তে পটাশিয়াম কমে যাওয়া) এবং কম সিরাম অসমোলালিটির কারণে পূর্বে খিঁচুনির ইতিহাস নেই এমন রোগীরও টনিক-ক্লোনিক খিঁচুনি (Tonic-Clonic Seizures) হতে পারে. যারা অ্যালকোহল বা বেনজোডিয়াজেপাইন প্রত্যাহার (Withdrawal) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন কিংবা খিঁচুনির ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেশি.
  • শ্লেষ্মা ঝিল্লির ক্ষতি ও ক্ষত: এই জাতীয় উদ্দীপক ওষুধ ব্যবহারের ফলে অন্ত্রের অভ্যন্তরে কলোনিক মিউকোসাল আলসারেশন (Colonic Mucosal Ulceration) বা ঘা এবং ইস্কেমিক কোলাইটিস (Ischemic Colitis) হওয়ার রিপোর্ট পাওয়া গেছে. রোগী যদি প্রথম ডোজ সেবনের পর তীব্র পেট ফাঁপা, পেটে অসহ্য যন্ত্রণা বা পেট ফুলে যাওয়ার সম্মুখীন হন, তবে এই লক্ষণগুলো সম্পূর্ণরূপে উপশম না হওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ বিলম্বিত করতে হবে.

সোডিয়াম পিকোসালফেট ব্যবহারের ফলে পরিপাকতন্ত্র এবং শরীরের সামগ্রিক বিপাক প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পায়.

  • পরিপাকতন্ত্রের প্রতিক্রিয়া: অত্যন্ত সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে তীব্র ডায়রিয়া এবং তলপেটে কামড়ানো ব্যথা বা ক্র্যাম্প. এছাড়া বমি বমি ভাব, বমি এবং পেট ফাঁপা খুব সাধারণ প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা দেয়. অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রে অন্ত্রের মিউকোসায় আলসার বা ঘা হতে পারে.
  • স্নায়ুতন্ত্র ও সিস্টেমিক প্রতিক্রিয়া: তীব্র ডায়রিয়ার কারণে রক্তচাপ সাময়িক হ্রাস পেয়ে মাথা ঘোরা, ভাসোভ্যাগাল প্রতিক্রিয়া (Vasovagal Response) এবং সাময়িক অজ্ঞান হয়ে যাওয়া (Syncope) ঘটতে পারে. এছাড়া তীব্র মাথাব্যথা একটি সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া.
  • সংরক্ষণকারী উপাদানের অ্যালার্জি: ওরাল লিকুইড বা সিরাপ ফর্মুলেশনে উপস্থিত মিথাইল প্যারা-হাইড্রোক্সিবেনজোয়েট এবং প্রোপাইল প্যারা-হাইড্রোক্সিবেনজোয়েট নামক প্রিজারভেটিভ বা সংরক্ষণকারী উপাদানগুলোর কারণে বিলম্বিত অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া যেমন ত্বকে ফুসকুড়ি, মুখমণ্ডল ফুলে যাওয়া এবং শ্বাসকষ্টের সৃষ্টি হতে পারে.
  • বিপাকীয় অসঙ্গতি: মারাত্মক মাত্রায় পানিশূন্যতার ফলে রক্তে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ক্লোরাইডের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে (যেমন Hyponatremia, Hypokalemia, Hypocalcemia, Hypochloremia) এবং রক্তে ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে.

সোডিয়াম পিকোসালফেটের তীব্র উদ্দীপক ধর্ম এবং সিস্টেমিক প্রভাবের কারণে নিম্নলিখিত অবক্ষয়জনিত বা তীব্র শারীরিক অবস্থায় এর ব্যবহার কঠোরভাবে প্রতিনির্দেশিত:

  • যান্ত্রিক ও শারীরবৃত্তীয় প্রতিবন্ধকতা: অন্ত্রের আংশিক বা সম্পূর্ণ ব্লকেজ (Gastrointestinal Obstruction or Ileus) এবং পাকস্থলী খালি হওয়ার গুরুতর অক্ষমতা (Gastric Retention) থাকলে এটি সেবন করা যাবে না.
  • অন্ত্রের দেয়ালের ক্ষতি: অন্ত্রের দেয়ালে কোনো ছিদ্র বা ক্ষত (Bowel Perforation) এবং সক্রিয় তীব্র প্রদাহজনক অন্ত্রের রোগ (যেমন তীব্র আলসারেティブ কোলাইটিস বা ক্রোনস ডিজিজ).
  • তীব্র পেটের পীড়া (Acute Abdominal Emergency): অ্যাপেন্ডিসাইটিস (Appendicitis), পেরিটনাইটিস বা তীব্র পেটব্যথা যার সাথে জ্বর, বমি বমি ভাব এবং বমি সংযুক্ত থাকে.
  • কিডনির গুরুতর অক্ষমতা: ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স (CrCl) ৩০ মি.লি./মিনিটের কম হলে শরীর থেকে ম্যাগনেসিয়াম নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে রক্তে মারাত্মক হাইপারম্যাগনেসেমিয়া (Hypermagnesemia) বা ম্যাগনেসিয়াম বিষাক্ততা দেখা দিতে পারে.
  • তীব্র সিস্টেমিক ভারসাম্যহীনতা: তীব্র শারীরিক পানিশূন্যতা (Severe Dehydration) এবং যকৃতের গুরুতর বিকলতা (Acute Hepatic Failure).
  • অন্যান্য প্যাথলজি: টক্সিক কোলাইটিস (Toxic Colitis) বা টক্সিক মেগাকোলন (Toxic Megacolon).
  • গর্ভাবস্থায়: ভ্রূণের ক্ষতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই, তবে নিরাপত্তার খাতিরে প্রথম তিন মাস এটি এড়িয়ে চলা উচিত এবং পরবর্তীতে কেবল চিকিৎসকের পরামর্শেই নেওয়া যাবে।
  • স্তন্যদানকালে: গবেষণায় দেখা গেছে এর সক্রিয় উপাদান বুকের দুধে নিঃসরিত হয় না, তাই এটি সেবন করা মায়েদের জন্য নিরাপদ
  • অ্যান্টিবায়োটিক: অ্যান্টিবায়োটিক কোলনের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে ফেলে, ফলে এই ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
  • মূত্রবর্ধক ওষুধ: ডায়ুরেটিকস বা স্টেরয়েডের সাথে এটি সেবন করলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
  • অন্যান্য ওষুধ: দ্রুত মলত্যাগের কারণে অন্যান্য ওষুধের শোষণ কমে যেতে পারে, তাই এটি সেবনের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে বা পরে অন্য ওষুধ খান

অতিরিক্ত সেবনে অনিয়ন্ত্রিত ডায়রিয়া, শরীরে লবণের ভারসাম্যহীনতা এবং প্রচণ্ড পেটে ব্যথা হতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মাত্রায় এটি ব্যবহার করলে 'অলস অন্ত্র' বা ক্যাথার্টিক কোলন হতে পারে এবং কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ওষুধ বন্ধ করে প্রচুর স্যালাইন বা পানি পান করতে হবে